Subscribe Us

header ads

ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের স্মৃতি স্থাপনা সংরক্ষণ করতে হবে-ছাত্র ইউনিয়ন

 

ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের স্মৃতি স্থাপনা সংরক্ষণ করতে হবে, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব,
ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত যাত্রা মোহন সেনগুপ্তের শত বছরের পুরোনো একটি ভবনের একাংশ বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে আজ ৫ই জানুয়ারী,২০২১ সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম জেলার প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 


বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সভাপতি এ্যানি সেন এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম  জেলা সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক টিকলু কুমার দে, কোষাধ্যক্ষ রনি কান্তি দেব, পাহাড়তলী থানা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক  নিশান রায়, হালিশহর থানা সংসদের আহ্বায়ক আশিক এলাহী, কোতোয়ালী থানা সংসদের কোষাধ্যক্ষ অয়ন সেনগুপ্ত, সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থী শুভ নাথ সহ প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইমরান চৌধুরী। 


সমাবেশে বক্তারা বলেন, গতকাল সকাল থেকেই সরকারি দলের  মদতপুুষ্ট একটি প্রভাবশালী মহল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এর স্মৃতি বিজড়িত ভারতীয় কংগ্রেস নেতা যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়িটি দখলের উদ্দেশ্যে অবস্থান নেয়। উল্লেখ্য বাড়িটিতে ব্রিটিশ বিরোধি আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী, সুভাষ চন্দ্র বসু, শরৎ বসু,মোহাম্মদ আলী ও  শওকত আলীসহ বিভিন্ন শীর্ষ নেতাদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বাড়িটি ছিল প্রগতিশীল আন্দোলনের সূতিকাগার। দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। যুবলীগের নামধারী প্রভাবশালী গোষ্ঠীটি  স্কুলের শিক্ষক এবং ভর্তি-ইচ্ছুক  শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। আধঘন্টার মধ্যেই একটি বুলডোজার এসে ভবনটির সামনের অংশ ভেঙে দেয়। এটি নিঃসন্দেহে আমাদের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি ও প্রগতিশীল চেতনার উপর আঘাত। অতীতেও এই ধরনের মৌলবাদী ও দখলদার শক্তি সরকারি পেশি শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাঙালির লড়াই সংগ্রামের চেতনাকে মুছে দিতে চেয়েছে।


বক্তারা আরো বলেন, এই ভবনটিতে যাত্রামোহন সেনগুপ্তের সন্তান দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের স্ত্রী নেলী সেনগুপ্ত ১৯৭০ সাল অবধি ছিলেন। তিনি ভারতের কংগ্রেস সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আমন্ত্রণে চিকিৎসার জন্য সেখানে যান। দেশে ফিরে তিনি দেখেন বেদখল হয়ে গেছে। এরপর তিনি ভারতে চলে গেলে পাকিস্তান সরকার সেটিকে শত্রু সম্পত্তি ঘোষণা করে। আমরা জানি, জমিটি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকার লিজ দিয়েছে। তাহলে সেটি তো বিক্রয়যোগ্য নয়। অর্থাৎ, দখলদাররা জমি ক্রয়ের যে আদালতের আদেশ নিয়ে বাড়িটি দখল করতে চাচ্ছে এটি নিঃসন্দেহে একটি অপকৌশল। আমরা সরকারের নিকট আহ্বান জানাচ্ছি অবিলম্বে এসব দখলবাজ দুষ্কৃতিকারীদের আইনের আওতায় এনে এই ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি ধ্বংস করার অপচেষ্টা করায় শাস্তি দেওয়া হোক। এবং প্রশাসনের নিকট আহ্বান ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকারি ভবনটি অধিগ্রহণ করে সংরক্ষণ করা হোক।


বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন চবি সংসদের সভাপতি গৌরচাঁদ ঠাকুর অপু এবং চুয়েট সংসদের সদস্য চিরঞ্জিত দাশ প্রতিবাদ সমাবেশে সংহতি জানান


সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদী মিছিল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ