মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত বরিশালে মানুষের কাছে একটি পরিচিত নাম। হবেই বা না কেন! তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি কিনা বরিশালে রাজনীতি, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা প্রভৃতি ব্যাপক অবদান রাখেন। তার অবদান কখনই ভুলতে পারবে না বরিশালবাসি। বর্তমান সময়ে সরকারি বরিশাল কলেজের নাম পরিবর্তন নিয়ে বরিশালে ব্যাপক তর্ক বিতর্ক চলছে। চলুন দেখে আসি শিক্ষায় তার অবদান ঠিক কতটুকু।
অশ্বিনী কুমার দত্তের পিতা ব্রজমোহন দত্ত ছিলেন বৃটিশ সরকারের একজন মুন্সেফ। অশ্বিনী কুমার দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও বিএল পাশ করে বরিশাল এসে আইন ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু কিছুকাল পরেই তিনি আইন ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে সমাজ সংস্কার ও দিক্ষণাঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে মনযোগী হন। বৃটিশ আমলে বরিশালের শিক্ষা, রাজনীতি এবং জ্ঞান অন্বেষণে পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। আর তার এই চিন্তার ফসল হিসাবে নিজের অর্থব্যয়ে বরিশাল নগরীর কালিবাড়ি রোডে জমি কিনে প্রথমে ১৮৮৪ সনে তাঁর পিতার নামে প্রতিষ্ঠা করেন 'ব্রজমোহন বিদ্যালয়'। এই বিদ্যালয়ের বহু সংখ্যক শিক্ষার্থী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ও যশোর বোর্ড থেকে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি দিক্ষণাঞ্চলে উচ্চশিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে নিজ অর্থে ১৮৮৯সনে তার পিতার নামে প্রতিষ্ঠা করেন 'ব্রজমোহন কলেজ'। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই মহাবিদ্যালয়টিকে এক সময়ে 'অক্সফোর্ড অফ বেঙ্গল' নামে বৃটিশ সরকার অবহিত করতো। এই মহা বিদ্যালয়ে নিজেই বিনা বেতনে শিক্ষকতা করতেন। অপরদিকে দিক্ষণাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসার জন্য নিজ অর্থে প্রতিষ্ঠা করেন 'ব্রজমোহন মেডিকেল স্কুল'। সর্বত্যাগী নিঃসন্তান এই মহামানব কলকাতায় চিকিৎসা গ্রহণকালে ১৯২৩সনে মৃত্যুমুখে পতিত হন। সেই থেকে কালীবাড়ি রোডে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব বাস ভবনটি(অশ্বিনী ভবন) পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে।
এবার বরিশাল কলেজের কথায় আসা যাক, পাকিস্তান সরকারের আমলে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের বাসভবনটি সরকার রিকিউজিশন করেন এবং তিনি সর্বদা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী ছিলেন বলে তার বাসভবন ব্রজমোহন কলেজের কসমোপলিটান ছাত্রবাস প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৬৬সনে তার বাসভবনে প্রতিষ্ঠা করা হয় 'বরিশাল নাইট কলেজ'। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নাইট কলেজটিকর প্রথমে বরিশাল ডে এন্ড নাইট কলেজে রূপান্তর করা হয়। পরে এটির নামাকরণ করা হয় ' বরিশাল কলেজ'। এরশাদ সরকারের আমলে কলেজটিকে ১৯৮৬সনে জাতীয়করণ করা হলে কলেজটির নামাকরণ করা হয় সরকারি বরিশাল কলেজ। ১৯৯০ সনে মহাত্মার ঐতিহাসিক বাসভবনটি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে ফেলা হয়। তাহলে এটাকি তার অবদান নয়?
যদি তার এই বাস ভবনটি না থাকত তাহলে হয়ত বরিশাল কলেজ নামটি হতই না।



0 মন্তব্যসমূহ